Thursday , November 5 2026

ইসলামে সে`ক্স পজিশনের নিয়ম…see more

পোস্টটি পড়ে হয়তো অনেকেই অবাক হচ্ছেন!

 

 

 

 

ভাবছেন ইসলামে আবার সে’ক্স পজিশন বা সঙ্গমের নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা থাকবে কেন? তাদেরকে বলে রাখছি, Islam is the complete code of life বা ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইসলাম যদি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানই হয়, তাহলে অর্থনীতি, রাজনীতি বা সমাজনীতির পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত জীবন বা যৌনজীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকলে তো এর পূর্ণাঙ্গতা থাকে না। এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেকেই হয়তো নাক ছিটকাতে পারেন, ভাবতে পারেন এগুলো নিয়ে আবার প্রকাশ্যে কীসের আলোচনা! কিন্তু ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি বিষয় নিয়েই বিজ্ঞানসম্মত ও যৌক্তিক আলোচনা করে। সেক্স পজিশন বা সঙ্গম নিয়ে সাধারণত আমাদের সমাজে খোলামেলা আলোচনা হয় না বলেই বিকৃত যৌনাচারের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ২৭ নম্বর রুকুতে স্বামী-স্ত্রীর এই একান্ত সম্পর্কের বিষয়ে চমৎকার ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোরআনের এই রুকুর ২২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্রস্বরূপ।” আয়াতটির একটি বিশেষ শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট রয়েছে। মদিনায় বসবাসরত ইহুদিদের মধ্যে একটি কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। তারা মনে করত, স্বামী যদি স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে বা পজিশন পরিবর্তন করে যোনিপথে সঙ্গম করে, তবে যে সন্তান জন্ম নেবে সে ট্যারা চোখের অধিকারী হবে। মদিনার আনসার সাহাবীরাও তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই ভিত্তিহীন ধারণা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন। এই কুসংস্কারের অবসান ঘটাতেই আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার এই আয়াতটি নাযিল করেন এবং জানিয়ে দেন যে এটি সম্পূর্ণ একটি ভ্রান্ত ধারণা।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আয়াতে এরপর বলা হয়েছে, “অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।” এর মানে হলো, স্বামী-স্ত্রী তাদের শারীরিক মিলনে যেকোনো পজিশন বা ভঙ্গি অবলম্বন করতে পারে। সামনে থেকে, পেছন দিক থেকে, পাশ ফিরে বা অন্য যেকোনো সুবিধাজনক ও আনন্দদায়ক পজিশনে সঙ্গম করা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ ও অনুমোদিত। এখানে স্বামী-স্ত্রীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তবে, এখানে মূল শর্ত একটাই, পজিশন যেটাই হোক না কেন, সঙ্গম হতে হবে প্রাকৃতিক প্রজনন অঙ্গে বা যোনিপথে। অনেকেই পজিশন এবং সঙ্গমের পথের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। পেছন দিক থেকে স্ত্রী-অঙ্গে মিলন করা বৈধ, কিন্তু পায়ুপথে সঙ্গম করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইসলামে এটি সুস্পষ্টভাবে হারাম বা নিষিদ্ধ। মলদ্বার কোনো শস্যক্ষেত্র বা প্রজননের স্থান নয়, বরং এটি মানবদেহের বর্জ্য নিষ্কাশনের পথ। নবী কারীম (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে মলদ্বারে সঙ্গম করে, আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে, মলদ্বারে সঙ্গমের ফলে মারাত্মক সব ইনফেকশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দাম্পত্য জীবনের এই অন্তরঙ্গতা এবং ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ আমরা পাই উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অনেক চমৎকার বিষয় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, যা প্রমাণ করে ইসলামে শারীরিক সম্পর্ক কেবল একটি জৈবিক চাহিদাই নয়, বরং এটি গভীর রোমান্স ও ভালোবাসার অংশ। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এবং রাসূল (সা.) একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে একসাথে গোসল করতেন। স্বামী-স্ত্রীর একসাথে গোসল করার এই বিষয়টি তাদের মধ্যকার অন্তরঙ্গতা ও ভালোবাসাকে কতটা সুদৃঢ় করে, তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়া তিনি আরও জানিয়েছেন যে, রাসূল (সা.) রোজা থাকা অবস্থাতেও স্ত্রীদের ভালোবেসে চুম্বন করতেন এবং আদর করতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দাম্পত্য জীবনে আদর-সোহাগ বা ভালোবাসার প্রকাশে ইসলাম কোনো কঠোরতা আরোপ করেনি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূরা বাকারার ২৭ নম্বর রুকুর ২২২ নম্বর আয়াতে স্ত্রীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়ে কেবল শারীরিক মিলন বা সঙ্গম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই সময়টিতে মিলন হলে তা উভয়ের জন্যই অস্বস্তিকর এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তবে এই সময়ে স্ত্রীকে আলাদা করে রাখা বা অচ্ছুত মনে করার যে কুসংস্কার সে যুগে ছিল, ইসলাম তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিয়েছে। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায় যে, তাঁর ঋতুস্রাব চলাকালীন সময়েও রাসূল (সা.) তাঁর কোলে মাথা রেখে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। এমনকি আয়েশা (রা.) পানি পানের সময় পাত্রের যে স্থানে মুখ রাখতেন, রাসূল (সা.) ভালোবেসে ঠিক সেই স্থানেই মুখ রেখে পানি পান করতেন। এর মানে হলো, মাসিক অবস্থায় কেবল যোনিপথে মূল সঙ্গম নিষিদ্ধ, কিন্তু স্ত্রীর সাথে মেলামেশা, এক বিছানায় ঘুমানো বা একে অপরের সান্নিধ্য উপভোগ করার ক্ষেত্রে ইসলামে কোনোই বাধা নেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ইসলাম স্বামী-স্ত্রীকে তাদের শারীরিক মিলনে এবং রোমান্সে পূর্ণ স্বাধীনতা ও আনন্দ উপভোগের অধিকার দিয়েছে। তবে তা হতে হবে একটি সুস্থ, সুন্দর ও প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যে। কোরআনের আয়াত এবং হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে আমরা এটাই শিখতে পারি যে, সুস্থ সমাজ ও সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক গঠনের জন্য যতটুকু জানার প্রয়োজন, ইসলাম তা অত্যন্ত শালীনতা, ভালোবাসা ও সুস্পষ্টতার সাথে আমাদের শিখিয়েছে।