Thursday , November 5 2026

প’রীমণি ও মেহ’জাবীনের ভি’ডিও,মাছরা…more

মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে দুই অভিনেত্রীর নামে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে ভিডিওগুলো সম্পাদিত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা ও নানা সন্দেহের মধ্যে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ভিডিও সরানোর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে হ্যাকের দাবি ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

 

 

 

কী ঘটেছে ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

গতকাল সকালে মাছরাঙা টিভির ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের ফিডের স্ক্রিনশট পোস্ট করে ফেসবুকে একাধিক ব্যবহারকারী জানতে চান, প্রোফাইলটি হ্যাক হয়েছে কিনা। প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এর আগের রাতে আপত্তিকর দৃশ্যসংবলিত পাঁচটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এসব ভিডিওর দুইটিতে বাংলাদেশি অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও নায়িকা পরী মণি সদৃশ নারীকে দেখা যায়। এই দুই ভিডিও গতকাল বিকেল পর্যন্ত প্রায় চার লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আলোচিত দুই ভিডিও সম্পাদিত

 

 

 

 

 

 

 

মাছরাঙার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে মেহজাবীন চৌধুরী ও পরী মণি দাবিতে যে দুই আপত্তিকর দৃশ্যের কনটেন্ট প্রচার হচ্ছিল, সেগুলো সম্পাদিত ভিডিও। ভিডিও দুইটির মূল সংস্করণ একাধিক এডাল্ট কনটেন্টের সাইটে খুঁজে পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার। এসব ভিডিওতে উক্ত দুই নারী তারকাকে দেখা যায়নি। মূলত, ফেস সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওগুলোতে ওই দুই নারী তারকার মুখ বসিয়ে সম্পাদনার মাধ্যমে ভিডিওগুলো বানানো হয়েছে। সম্পাদিত এসব ভিডিও পূর্বেও বিভিন্ন এডাল্ট সাইটে আপলোড হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটগুলোতে আপত্তিকর ও অনুপযুক্ত কনটেন্ট থাকায় রিউমর স্ক্যানার সচেতনভাবে প্রতিবেদনে সেসব সূত্রের হাইপারলিংক সংযুক্ত করা থেকে বিরত থাকছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

হ্যাক দাবির পরও চলেছে কার্যক্রম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

গতকাল সকালে ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টকে মাছরাঙা টিভির মাল্টিমিডিয়া ম্যানেজার মাহমুদ রুবেল জানান, তাদের একাউন্টটি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই বক্তব্যের পর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এই ভিডিওগুলোর পর আরো ১৭টি নিউজ কনটেন্ট পোস্ট হয়েছে। আর্কাইভ ঘেঁটে দেখা যায়, এর মধ্যে সর্বশেষ প্রকাশিত খায়রুল বাশারকে নিয়ে একটি কনটেন্ট প্রকাশের পরই গতকাল দুপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বাকি ১৬টি কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর সবই পুরোনো নিউজ কনটেন্ট, যা মাছরাঙার ফেসবুক পেজ এবং একই ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে গত ০৮ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া, ওপেন সোর্স অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতকাল দুপুরেও প্রোফাইলটি থেকে একজনকে ‘ফলোয়িং’ দেওয়া ছিল। পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ফেসবুকে দিনভর সমালোচনা-সন্দেহ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মাছরাঙা টেলিভিশনের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল দিনভর ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে কেউ বিষয়টি নিয়ে ট্রল করেছেন, কেউ সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মো. আবদুল আলিম নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, “Mehazabien Chowdhury এবং Pori Moni-এর সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে, বরং তাদের Maasranga Television-এর বিরুদ্ধে আইনি মামলা করা উচিত, তাদের ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোর জন্য। এটি সরাসরি মানহানির শামিল এবং তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা। অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকুক বা না থাকুক, পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য অ্যাডমিনদের যথেষ্ট সময় ছিল, কিন্তু তারা নিশ্চিতভাবেই তা করেননি। এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই লজ্জাজনক!”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অন্যদিকে, ড. শাদিদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি ওঠার পরও সংবাদমাধ্যমটির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি জানি তারা এটাকে Hacking বলে শাক দিয়ে মাছ ধাকতে যাবেন কিন্তু এই পোস্টগুলো করা হয়েছে ১২ ঘন্টা আগে এবং এই পোস্টগুলোর পর তারা আবার স্বাভাবিক ভাবেই তাদের অন্য News গুলোর পোস্ট শেয়ার করেই যাচ্ছে। কোন sorry পর্জন্ত বলেন নাই। যে অভিনেত্রীদের ছবি ও ভিডিও দেয়া হয়েছে তাদের উচিত Maasranga News এর বিপক্ষে মানহানীর মামলা করা। এটা কোন Simple Mistake হতে পারে না!”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এদিকে, কেউ কেউ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য কোনো ইস্যু আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাবেক কর্মীর নাম এনেছেন কেউ কেউ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মাছরাঙা কান্ডে ফেসবুকে একাধিক ব্যক্তিকে এই ঘটনার জন্য মাছরাঙার সাবেক একজন কর্মীকে দায়ী করতে দেখা গেছে। ইহান আয়রাফ নামে এক ব্যক্তি তার এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, “মাছরাঙা টেলিভিশনে যে এই কাজ করছে সে তাদের ই এক্স এমপ্লয়ে। ঠিক কোন কারণে এটা করছে তা জানিনা তবে সে ই এই কাজ করছে। তামজিদ রোকন, বর্তমানে সে দেশ টিভি তে কাজ করছে এবং পূর্বে মাছরাঙা এবং আরটিভি তেও কাজ করছে। হয়তো মাছরাঙা টেলিভিশনের সাথে কোনও সমস্যার কারণে সে এক্সেস নিয়ে এই কাজ করছে। যেহেতু পূর্বে কাজ করছে, এর জন্য তার কাছে অনেক কিছুই ছিলো। যেগুলো ইউজ করে সে ইনস্টাগ্রামের এক্সেস নে। আর এক্সেস এখনো তার কাছেই আছে।”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাইজুল আমীন নামে আরেকজন লিখেছেন, “আবার আরেকটা কথা শোনা যাচ্ছে, তাদের এক্স ইমপ্লয়ির কাছে ইনস্টাগ্রাম এর এক্সেস। তাঁর সাথে সম্ভবত ঝামেলা ছিলো। সে ক্ষোভ থেকে এটা করেছে। এখনো এক্সেস তাঁর কাছেই।”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তামজিদ রোকন ২০২১ সালে মাছরাঙায় যোগ দেন। চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির চাকরি ছাড়েন তিনি। আলোচিত দাবি প্রসঙ্গে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তার দায় অস্বীকার করে রিউমর স্ক্যানারকে জানান, তিনি উল্টো এই ইস্যু সমাধানে মাছরাঙা কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করে গেছেন। তার ভাষ্যমতে, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস সিস্টেম হ্যাক হয়েছিল। তখন তিনিই তা পুনরুদ্ধার করেছিলেন।

 

দিনশেষে সরেছে ভিডিও

 

 

 

 

ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটার পর থেকে আলোচিত ভিডিওগুলো মাছরাঙার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে আর দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ, ভিডিওগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রোফাইল থেকে।